Header Ads

I am mujammel

মেন্টাল হেলথ্

বহুদিন ধরেই মেন্টাল হেলথ্ বা পাবলিক হেলথ্ নিয়ে কাজ করবো ভাবছি, তবে হয়ে উঠে না। যাই হোক, অল্প সময়ের প্রতিবেদন, যাদের সময় আছে পড়তে পারেন। সমাজে বিয়ের ক্ষেত্রে সবচেয়ে অবহেলিত হয় মা হারা মেয়েগুলো। শুধু মা নেই এই একটি কারণেই অনেক সময় তাদের দিকে পাত্রপক্ষ ফিরেও তাকায় না। অনেকে মনে করেন, শ্বশুরবাড়িতে জামাই তার যথার্থ মুল্যায়ন পাবে না। অথচ শৈশবে যেসব মেয়েরা মাকে হারিয়েছে, তারা তো বরং সমাজের আরেকটু সহানুভূতি ও ভালোবাসার দাবিদার। কাজ না থাকলে যা হয় আরকি!!! গত কয়েকদিনে আমি ফোনে ও সরাসরি কথা বলেছি এমন ৪০ জন নারী ও শিশুর সঙ্গে, যারা শৈশবে মাকে হারিয়েছেন। তাদের বর্তমান মানসিক অবস্থা, পারিবারিক পরিস্থিতি এবং সামাজিক অবস্থান বোঝার জন্য আমি তাঁদের পরিবারের সদস্যদের সাথেও আলাপ করেছি। এই তথ্যের ভিত্তিতে যে চিত্র উঠে এসেছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং আমাদের সমাজের একটি গভীর সংকটকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখায়। গবেষণায় দেখা গেছে, মা মারা যাওয়ার পর প্রায় ৮৫% ক্ষেত্রে বাবারা দ্বিতীয়বার বিয়ে করেন। নতুন সংসারে শিশুদের মানসিক নিরাপত্তা প্রায়শই ধ্বংস হয়ে যায়। ১৭% শিশু জানান, তারা পরিবারের মধ্যে নিজের অধিকার হারিয়ে ফেলে্ছে। ৪৫% শিশুই বলেন, তারা তাদের অনুভূতি বা চাহিদা প্রকাশে সংকোচ বোধ করেন। সবচেয়ে চমকে দেওয়ার মতো তথ্য হলো—৭৩% মা-হারা সন্তান পরিবারেই লাঞ্ছনা ও অবমাননার শিকার হন। এতে তাদের মধ্যে জন্ম নেয় একধরনের স্থায়ী আত্মগ্লানি ও মানসিক বিচ্ছিন্নতা, যা তাদের পরবর্তী জীবন, বিশেষত দাম্পত্য সম্পর্কে প্রভাব ফেলে। মা হারা মেয়েদের জীবন এই বঞ্চনার ভার নিয়ে আরও জটিল হয়ে ওঠে। শ্বশুরবাড়ির ক্ষেত্রেও মা-হারা মেয়েরা প্রায়শই বৈষম্যের শিকার হন। অনেক সময় শ্বশুরবাড়ির লোকজন ‘মা না থাকার’ বিষয়টিকে একধরনের সামাজিক বা মানসিক দুর্বলতা হিসেবে গণ্য করেন। তাদের দিকে তাকানো হয় করুণার নয়, অবজ্ঞার দৃষ্টিতে। ফলে, বিয়ের পরও তারা পরিবারে সহজে জায়গা করে নিতে পারেন না, বরং অনেক সময় তাদের অবস্থান আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। আমার তথ্য অনুযায়ী, ৬৫% মা-হারা নারী তাদের দাম্পত্য জীবনে একাধিকবার সম্পর্ক ভাঙনের মুখোমুখি হয়েছেন। ৭২% নারী জানিয়েছেন, তারা পারিবারিক ভাবে সবার সাথে সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে ব্যর্থ হয়েছেন। ভালোবাসা না পাওয়ার অভিজ্ঞতা থেকে তাদের মধ্যে তৈরি হয় স্থায়ী অনাস্থা। তারা অনেক সময় সম্পর্ককে একটি সামাজিক অভিনয় মনে করেন। ফলে, মানসিকভাবে বিচ্ছিন্ন থেকেও তারা একটি সম্পর্ক বা সংসার টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করেন, যা শেষ পর্যন্ত একঘেয়েমি ও নিঃসঙ্গতায় রূপ নেয়। আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো মাতৃত্ব। ৪০% মা-হারা নারী জানিয়েছেন, তারা গর্ভধারণ বা সন্তানের জন্মের পরও ‘মা’ হয়ে ওঠার স্বাভাবিক অনুভূতিগুলো অনুভব করতে পারেননি। শৈশবের অসমাপ্ত মানসিক বিকাশ তাদের মধ্যে তৈরি করে একধরনের নিঃসঙ্গ ও আবেগহীন চেতনা, যা তাদের প্যারেন্টিং স্টাইলকেও প্রভাবিত করে। এই সব অভিজ্ঞতা একত্রে সমাজে তৈরি করে এক অনাকাঙ্ক্ষিত বৈষম্যচিত্র, যেখানে মা হারা মেয়েরা বারবার হারিয়ে ফেলেন বিশ্বাস, আত্মবিশ্বাস এবং নিজের সত্ত্বাকে। সমাজ ও রাষ্ট্র যদি এই বাস্তবতাকে যথাযথ গুরুত্ব না দেয়, তবে একের পর এক প্রজন্ম এই অবহেলার শিকার হবে অদৃশ্য, অথচ গভীর ক্ষত নিয়ে।

No comments

Powered by Blogger.