প্রেম, বিয়ে, বউ সমাচার: আমার অভিজ্ঞতা।
১৩ ই জুন ২০২৫, জীবনের এক নতুন অভিজ্ঞতা। হঠাৎ দুপুরে Md Sabbir Alam মামার ফোন, ভাগ্নে আমি তোমার শ্বশুড় বাড়ির সামনে, তুমি কই?? স্পিকার অন থাকায় নিজেও পড়লাম এক লজ্জাকর অবস্থায়। যাই হোক বললাম মামা বাজারে বসেন আমি আসতেছি।
রেডি হয়ে গাড়ি নিয়ে গেলাম বাজারে। গিয়ে দেখি সাব্বির চলে গেছে। Md Hatem Tai, Athikul Islam Jumon আর মোঃ আল মিজান বসে আছে। যাই হোক অনেক হাসাহাসি হলো, সিন্ধান্ত হলো কোথাও ঘুরতে যাবো, ম্যাপ দেখে ঠিক হলো নেত্রকোনায় একটা লেক দেখতে যাবো। কিন্তু গাড়ি মাত্র একটা MD Rakib মুন্সিকে ফোন দেওয়া হলো। ও আবার মামার বাড়িতে বউ নিয়ে বেড়াতে গেছে, মাত্র বাড়িতে আসার জন্য রেডি হলো, বললাম তাড়াতাড়ি বিদায় নিয়ে চলে আয়। আমরা তখন বসে আছি বকুল তলায়। হঠাৎ Md Emran এর সাথে দেখা। বাড়িতে আসলো কয়েকদিন হলো, কিন্তু দেখা নাই,, শুনলাম ইদের ছুটি মাত্র দশ দিন।তাই বউ এর কড়া নির্দেশ বাহিরে যাওয়া লিমিটেড, সন্ধ্যার আগেই বাড়িতে ফেরতে হবে।
এদিকে মুন্সি রাকিবের আসার কোন খবর নাই। অনেকক্ষণ পরে ফোন ধরে বলতেছে, বন্ধু এসে জানাচ্ছি কি ঘটনা। যাই হোক, সন্ধ্যার আগে আগে সে এসে উপস্থিত। কাহিনি হলো গিয়েছিলো রাকিবের মামার বাড়ি মানে বউ এর মামা শ্বশুড় বাড়িতে আসার সময় তাদের কাছ হতে পেলো বিশাল অঙ্কের সালামি কমপক্ষে হাজার দশেক। বেড়াতে খরচ হয়েছে প্রায় চার হাজার। আসার পর সালামির টাকা নিয়ে বাধলে ঝামেলা, রাকিবের ভাষ্যমতে খরচের টাকা সালামি হতে কাটা হোক, বউ এতে নারাজ।
যাই হোক রওয়ানা হলাম, আমি মিজান আর জুমন বসলাম গাড়িতে অন্য গাড়িতে রাকিব, হাতেম আর A H Opu Talukder। রামপুর বাজারে গিয়ে দেখি অনেকগুলো সুন্দরী রমনী বসে আছে রাস্তার ধারে, হয়তো কোথাও বেড়াতে গিয়েছিল। বেচারা জুমনের মনে ধরে গেলো এক সুন্দরী অপ্সরীকে। বললো গাড়ি থামাও। পরে এক কাকার সাথে সাক্ষাৎ করে রওয়ানা হলাম আবার। এদিকে অপুর গাড়ি আগেই চলে গেছে, বললাম তোরা একটা ব্রিজে গিয়ে বস। এদিকে আমরা দেরি করাতে অপুর রাগ কমাতে অটোর সাথে এক্সিডেন্ট এর অভিনয় করলাম। এদিকে মিজান গাড়ি থেকে নেমেই দৌড়, বউ এর সাথে দশ মিনিট পরপর কথা না বললে নাকি দম বন্ধ হয়ে যায়। যাই হোক একটা নদীর ধারে কিছুক্ষণ বসে আবার রওয়ানা হলাম।
রেনট্রিতলা হতে ডান দিকে এগোলাম, কদম গাছের সারি আর গন্ধে মন ভরে গেলো। কি অপরুপ দৃশ্য। সারাক্ষণ চললো গান, দুনিয়ার কোন গান মনে হয় বাদ যায় নাই, বাংলা হিন্দি, ইংরেজী। কিন্তু কোন গানেই এক কলির বেশি জানি না। এদিকে রাস্তায় কাউকে পাইলেই বলি, মামা কেমন আছেন, ভাই বাড়িতে আসো আমরা যাচ্ছি, তালই কেমন আছেন, আরও এমন সম্ধোধন যাতে সবাই কনফিউজ হয়ে যায়। হতাশ হলাম যখন দেখি ম্যাপ আমাদের নিয়ে গেলো এক বিশাল বিলে, রাস্তা বলতে খেতের আইল। কোন জনমানব নাই। হতাস হয়ে সিন্ধান্ত নিলাম পুরা নেত্রকোনা ঘুরবো। কোন রকমে জান নিয়ে কেন্দুয়া গিয়ে উঠলাম। কেন্দুয়া হতে মদনের দিকে বিশাল এক হাওর, ভাবলাম ওদিকে যাই, পতিমধ্যে মিজান রাকিবের বউকে ফোন দিলো, বললো ভাবি রাকিব কই? ভাবি বললো উনি তো আপনাদের সাথেই। সাথে সাথে মিজান বললো আমাদের সাথে নাই, হয়তো কোন নষ্ট পুলাপানের সাথে বসে গা.ন. জা খাচ্ছে। একথা শুনেই রাকিবের উপর নেমে এলো ঘুর্নিঝড়, যাই হোক অবশেষে সবাই প্রামাণ করলাম রাকিব আমাদের সাথেই।
এদিকে স্টেপরাইজ কো-অপারেটিভ সোসাইটির অনলাইন মিটিং। নেটের ঝামেলা সাথে সময়ের অভাবে মিটিং এ জয়েক করেও বের হয়ে আসলাম।
মদন হতে মাত্র বের হলাম আটপাড়ার দিকে, পথে বিশাল বৃষ্টি। এক দোকান হতে একটা পলি নিয়ে বৃষ্টিতেই শুরু করলাম গাড়ি চালানো। সাথে তিনজনের বেসুর কন্ঠে গান, মানুষের সামনে গাইলে হয়তো মাইর খাইতে হতো নয়তো মানুষই জায়গা ছেড়ে চলে যেতো। যাই হোক গাড়ি চলন্ত থাকায় কারো সমস্যা হয় নি। বৃষ্টি থাকায় গাড়ির গতি তেমন বাড়ানো যায় নি।
ওমা! আটপাড়া এসে দেখি অপু আমাদের আগেই এসে বসে আছে। ওর তো মন খারাপ বাড়ি হতে বউ এর কাছ হতে রাত আটটা পযন্ত সময় নিয়েছিলো, আর এদিকে তখন এগারটা। বউ এর ভয়ে বেচারা কাচুমাচু। রাগে বললো আমি চলে যাবো।বউ এর অত্যচার তা তো আর পাবলিকলি বলা যায় না, তাই বললো দুজন লোক দোকানে কাগজপত্র রাখছিলো তাদের ওগুলো দিতে হবে, সকালেই ঢাকা যাবে। বুঝায়ে বললাম কাগজপত্র আমরা রাতে গিয়ে পৌছায়ে দিবো। তবুও রাজি না। অবশেষে কোন রকমে রাজি হলো।
ইতিমধ্যে মিজানের বউ এর ফোন তুমি কি খেয়েছো?? মিজান বললে খাই নি,,,ওমা!! কি অভিমান,,, তুমি না খেলে আমিও খাবো না। অবশেষে মিজান এক লিটার ঠান্ডা ও হালকা নাস্তা করে বউকে নিশ্চিত করে ঘুমাতে বললো।
এদিকে Abu Yusuf Nadib , ও (Priyo Art)মনিরকে ফোন দেওয়া হলো আমরা এদিকে ঘুরাফেরা করে নেত্রকোনা শহর হয়ে ময়মনসিংহে ডুকবো। পুলিশি ঝামেলা আর খাওয়া দাওয়া মেনেজ কর। এদিকে বারহাট্টা, মোহনগঞ্জ হয়ে নেত্রকোনা ডুকতেই মনে ভয় যদি গাড়ি পুলিশে ধরে, সাথে সাথে নাদিবকে ফোন দিলেও কিছু করার নাই, কারন এখন ধরার সাথে সাথেই অনলাইন মামলা, পরে রিকোয়েস্টে কিছু করার নাই। ফোন দিলাম তুই শহরের বাহিরে আয়, একসাথে ডুকবো। যাই হোক বেচারা রিক্সা করে এসে আমাদের নিয়ে শহরে ডুকলো। মনিরও এসে উপস্থিত।
ডুকলাম এক রেস্টুরেন্টে, এদিকে মনিরের বউ এর আবদার মনির যাই খাক, বউ এর জন্য নিয়ে যেতে হবে। একটা রুটি টিস্যু দিয়ে মোড়ানো হলো, বালিশ মিষ্টি নেওয়ার সুযোগের অভাবে আর পকেটে ডুকাতে পারে নাই।
মনির আবার ভালো ঘটক, হাতেম তো ধরে বসলো, এত এত ভালবাসার মধ্যে আমি নিরীহ এক প্রাণী। সকাল হতে কেউ ফোন দেয় না, আমার জন্য বউ ম্যানেজ কর। এদিকে জুমন প্রথম প্রেমে চ্যাখা খাওয়ার পর বিয়ে নিয়ে আপাতত ইচ্ছে নেই। বাড়ি হতে বউ দেখে, কিন্তু তার পছন্দ হয় না।
নাদিব আবার প্রেম করে বিশাল এক বড় লোক বাপের সুন্দরী মেয়ের সাথে যা কেউ জানে না, শুধু আমি ছাড়া। আপাতত প্রমোশন না পাওয়া পযন্ত অপেক্ষা করতে হবে। যাই হোক সবার কাছ হতে বিদায় নিয়ে চললাম পূর্বধলা, তারপর গোরীপুর। মিজানকে বাসায় রেখে বাড়ির দিকে রওয়ানা হলাম, তখন প্রায় ভোর।
আমি শুধু ভাবছি, বিয়ে কি আার্শিবাদ নাকি অভিশাপ? এতো প্যারা কেমনে নেয় ওরা। যাই হোক আমি স্বাধীন, কোন জবাবদিহিতা নাই,,, ওলালালা ওলালালা, তুমসে কেয়ার পেরি গান চলছে রাস্তার পাশে এক বিয়ে বাড়িতে,,আর আমি এগিয়ে চলছি মোর বাড়ির বালিশময় বিছানার দিকে,,,,,,,,
Md. Mujammel Haque
Subscribe to:
Post Comments
(
Atom
)
No comments