Header Ads

I am mujammel
বিয়ের সময় চাকরি সংক্রান্ত প্রশ্নে অনেক সময়ই বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হয়। বিশেষ করে যখন পাত্র সরকারি চাকরিজীবী না হয়, তখন প্রশ্নকর্তার চোখেমুখে একটা হতাশা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। বাংলাদেশের সামাজিক বাস্তবতায় সরকারি চাকরির প্রতি এক ধরনের অন্ধ আকর্ষণ কাজ করে, যেন তা-ই সুখের একমাত্র চাবিকাঠি। বিসিএস হোক বা ব্যাংক, শিক্ষা, প্রশাসন কিংবা অন্য যে কোনো সরকারি চাকরি, সবই যেন নিশ্চিত ভবিষ্যৎ আর আরামদায়ক জীবনের প্রতীক। একটি কল্পিত জরিপের কথা ভাবুন তো, যদি কন্যার বাবাকে জিজ্ঞেস করা হয়, আপনি কেন মেয়ের জন্য একজন সরকারি চাকরিজীবীকেই পছন্দ করেন?, তাহলে অধিকাংশ বাবার উত্তর হবে, আমার মেয়েটাকে সুখে রাখবে। এখানে 'সুখ' মানে আসলে টাকা, অর্থ, নিরাপত্তা ও সামাজিক মর্যাদা। মেয়েরাও আনন্দে আত্মহারা হয়, কারণ তাদের পাত্রের আছে সরকারি চাকরি, নিয়মিত বেতন, পেনশন, ক্ষমতা ও প্রতিষ্ঠিত পরিচয়। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, একজন নবম বা দশম গ্রেডে চাকরিতে জয়েন করা ব্যক্তির কাছে যদি এত টাকা, এত সম্পদ, আধুনিক শহরে জমি-বাড়ি, গাড়ি থাকার বাস্তবতা দেখা যায়! তাহলে তার উৎস কী? এই প্রশ্নের জবাব খুঁজে পাওয়া কঠিন। না কন্যার বাবা, না কন্যা, না বর নিজেই এর সঠিক ব্যাখ্যা দিতে পারে। কারণ সরকারি চাকরি দিয়ে বৈধভাবে এতটা দ্রুত আর্থিক অবস্থান তৈরি করা আদৌ সম্ভব নয়। যে সরকারি কর্মকর্তা চাকরিরত অবস্থায় পৈতৃক সম্পত্তি ছাড়া আধুনিক শহরে জমি কিনে পাঁচতলা বাড়ি তুলেছে, সে হয়তো আলাদীনের চেরাগ পেয়েছে! বাস্তবতা হচ্ছে, এই ধরনের 'সফলতা'র পেছনে ঘুষ, দুর্নীতি বা অবৈধ উপার্জনের এক অন্ধকার জগত লুকিয়ে থাকে। অথচ এই অবৈধ সম্পদের গল্পকে আমরা 'স্মার্টনেস', 'চালাকিতে বাঁচা' বলে প্রশংসা করি। তাহলে প্রশ্ন আসে, এই মস্তিষ্কে গেঁথে দেওয়া ‘বাড়ি-গাড়িওয়ালা সরকারি চাকরিজীবী’র ইমেজ কে তৈরি করেছে? এর উত্তর স্পষ্ট, তারাই, যারা উপরি আয়কে বৈধতা দিয়েছে, যারা ঘুষকে সমাজে প্রতিষ্ঠিত করে দিয়েছে, এবং যারা এই অর্থসন্ধানী নীতিহীন পথকে বুদ্ধিমত্তার ছদ্মবেশে সাজিয়ে তুলেছে। ফলে একটি প্রজন্ম বেড়ে উঠছে অন্ধ ধারণা আর বিকৃত মানসিকতা নিয়ে যেখানে মানুষ নয়, টাকাই হচ্ছে একমাত্র মূলধন। বি:দ্র- আর আমার সরকারী চাকরি নাই বলেই নিচের ছবির মতো করে নিজ ওয়ালে পোস্ট করতে পারছি না😄😄। Md. Mujammel Haque

No comments

Powered by Blogger.