আপনি কি জানেন আপনি ডেঙ্গুতে সর্বোচ্চ কতবার আক্রান্ত হতে পারেন?
ডেঙ্গু ভাইরাস মূলত Aedes মশার দুইটি প্রজাতির (Aedes aegypti এবং Aedes albopictus) মাধ্যমে ছড়ায়। যখন একটি মশা সংক্রামিত ব্যক্তিকে কামড়ায়, ভাইরাসটি সংক্রামিত ব্যক্তি হতে ওই মশার শরীরে প্রবেশ করে। Incubation সময়ের পর, সেই মশা অন্য কোনো স্বাভাবিক ব্যক্তিকে কামড়ালে ভাইরাসটি নতুন ব্যক্তির শরীরে প্রবেশ করে এবং তিনি আক্রান্ত হন।
ডেঙ্গু ভাইরাসের চারটি সেরোটাইপ রয়েছে—DEN-1, DEN-2, DEN-3, DEN-4। একজন ব্যক্তি একটি নির্দিষ্ট সেরোটাইপ দ্বারা একবার আক্রান্ত হলে, তার শরীরে সেই সেরোটাইপের বিরুদ্ধে আংশিক প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হয়। কিন্তু অন্য কোনো সেরোটাইপ দ্বারা আক্রান্ত হলে পুনরায় রোগ দেখা দিতে পারে। অর্থাৎ, একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ চারবার পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হতে পারেন।
তবে দ্বিতীয়বার বা পরবর্তী বার আক্রান্ত হলে রোগের প্রকৃতি অনেক বেশি গুরুতর হয়ে যায়। এর কারণ হলো “অ্যান্টিবডি-ডিপেন্ডেন্ট Anhancement (ADE)” একটি প্রক্রিয়া। প্রথমবার আক্রান্ত হওয়ার পর তৈরি হওয়া আংশিক প্রতিরোধ ক্ষমতা দ্বিতীয়বার ভাইরাসে সংক্রমণের সময় রোগের তীব্রতা বাড়ায়, ফলস্বরূপ হেমোরেজিক ফিভার বা ডেঙ্গু শক সিনড্রোম দেখা দিতে পারে, যা প্রাণঘাতী হতে পারে।
যেহেতু ডেঙ্গু লিথাল (মরণঘাতী) রোগ, তাই আগেই সচেতন হওয়া অত্যন্ত জরুরি। বাড়ির আশেপাশের মশার জন্মস্থল ধ্বংস করা, তিন দিনের বেশি ধরে জমানো পানি ফেলে পরিষ্কার করা, মশারি ব্যবহার করা, এবং ব্যক্তিগত সুরক্ষা নেওয়া—এই পদক্ষেপগুলোই আমাদের ডেঙ্গু থেকে নিরাপদ রাখতে পারে।

No comments